বিরামপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী চাকুরির মেলা বা ‘জব ফেয়ার’। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই মেলা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিরামপুরের এই বিশাল আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে এই মহতী মেলা ও উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আয়োজিত জব ফেয়ারে চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনব্যাপী এই মেলায় প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। সকাল থেকেই বিরামপুর ও এর আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
এই মেলায় নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে এবং কাঙ্ক্ষিত চাকরির আশায় প্রায় ২৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণী অগ্রিম ও অন-স্পট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। মেলা প্রাঙ্গণে চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা নেয়া হয় এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক ভাইভার (সাক্ষাৎকার) ব্যবস্থাও ছিল।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ, বহুজাতিক কোম্পানি, আইটি ফার্ম, ব্যাংক-বীমা,ঔষধ কোম্পানি, আন্তর্জাতিক সংস্থা সহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৯৩টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করে।
চাকরি প্রার্থীদের সিভি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে স্টল সাজিয়ে বসেন। চাকরিপ্রার্থীরা এক ছাদের নিচেই দেশের এতগুলো বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন।
মেলার মূল উদ্যোক্তা ও প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তরুণদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য দেশের দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা। এই জব ফেয়ার নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে একটি সরাসরি সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। আমরা চাই বিরামপুরসহ এই অঞ্চলের কোনো যোগ্য তরুণ যেন বেকার না থাকে।" তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
মেলায় আগত বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী জানান, ঢাকার বাইরে মফস্বল পর্যায়ে এ ধরনের বড় উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের দালালের অনুকম্পা ছাড়াই সরাসরি কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন।
দিনব্যাপী এই কর্মযজ্ঞ শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বিপুল সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। বিরামপুরের ইতিহাসে এই জব ফেয়ারটি অন্যতম সফল একটি আয়োজন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীসমাজ।
জব ফেয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, দিনাজপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, পার্বতীপুর- ফুলবাড়ি -৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা -পিপিএম। এছাড়াও জব ফেয়ার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা.তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি'র সভাপতি অ্যাড.মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বক্তিয়ার আহমেদ কচি, বিরামপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি মিয়া মো.শফিকুল আল মামুন , সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল প্রমুখ।
এ সময় নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/আ.র