খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত পৃথক ডেঙ্গু ইউনিটের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের সহজে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য ছয়টি স্থানে ছয়টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনাসহ নগর স্বাস্থ্য ভবনেও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত পৃথক ডেঙ্গু ইউনিটের চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাস সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুবিধার্থে হাসপাতালে বিদ্যমান ২০০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড-১৯ ইউনিটকে ডেঙ্গু ইউনিটে রূপান্তর করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন এবং এ ইউনিটে বেড সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে ৩০টি হাসপাতাল বেড সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রবিবার বিকেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের জন্য বেড ক্রয়ের লক্ষ্যে কেসিসি’র স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি বেড ২০ হাজার টাকা করে ৩০টি বেড ৬ লক্ষ টাকায় ক্রয় করা হয়।
কেসিসি প্রশাসক ক্রয়কৃত ৩০টি বেড আজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন এবং এ ইউনিটে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান, কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কেসিসি’র ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব