প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের উদ্যোগ : ববি হাজ্জাজ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সরকার নতুন মনিটরিং পলিসি এবং পরিমার্জিত পাঠ্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আজ বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নতুন মনিটরিং পলিসির মূল লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে হাজিরা বাড়ানো নয়, বরং প্রতিটি শিশু ক্লাসে কতটুকু শিখছে তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও স্কুলের সার্বিক কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। শিক্ষার্থীদের বয়স ও মেধার ওপর ভিত্তি করে পড়াশোনাকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও আনন্দময় করতে পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ চলছে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার আসল উন্নয়ন শুধু নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ বা শিক্ষার্থী উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে প্রকৃতপক্ষে কতটা দক্ষতা অর্জন করছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনে স্কুল ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষার মান, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।
স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম (দুপুরের খাবার কর্মসূচি) নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই দেশের ১০০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধবপুরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) নিজস্ব অর্থায়নে ১০০টিরও বেশি স্কুলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের সফল অভিজ্ঞতাগুলো পর্যালোচনা করে দেশের প্রেক্ষাপটে যা উপযোগী, তা সরকারের নিজস্ব কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে।
সফরকালে প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের নানা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তিনি জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘মিড-ডে মিল’ বিতরণ করেন এবং মায়েদের সংগঠন 'মাদার্স অ্যাসোসিয়েশন', শ্রেণীকক্ষের লাইব্রেরি কার্যক্রমের 'বুক ক্যাপ্টেন' ও ‘লিটল এগ্রিকালচারিস্টস ক্লাব’-এর সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) বাংলাদেশ প্রোগ্রাম প্রধান জেসি উড, স্কুল ফিডিং বিষয়ক কর্মকর্তা এমা লেফু এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভোরের আকাশ/রই