শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভারতীয় যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শারজাহ থেকে আসা ওই যাত্রীর শরীরের বিশেষ অংশে পেস্ট আকারে লুকানো অবস্থায় ৯টি স্বর্ণের টুকরা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে এয়ার আরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে (G9-526) শারজাহ থেকে চট্টগ্রামে আসেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা তামিম আনসারী।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও ডিজিএফআই প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল ওই যাত্রীকে নজরদারিতে নেয়।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই যাত্রী গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার আন্ডারওয়্যারের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৯টি স্বর্ণের টুকরা পাওয়া যায়। পরে স্বর্ণগুলো জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী জানান, তিনি নিয়মিত এ রুটে যাতায়াত করেন এবং কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে স্বর্ণ বহনের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হবে। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নজরদারি, আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হলেও স্বর্ণ চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের উচ্চ মূল্য, বৈধভাবে আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন খরচ এবং দেশে স্বর্ণের চাহিদার কারণে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ পথে স্বর্ণ আনার চেষ্টা করে। অনেক সময় তারা সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহার করে, আবার কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশ, লাগেজ, ইলেকট্রনিক পণ্য কিংবা বিশেষভাবে তৈরি সামগ্রীর ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার চেষ্টা করে।
তবে বিমানবন্দরগুলোতে কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার কারণে নিয়মিতই এসব চালান ধরা পড়ছে। যাত্রীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী শনাক্তকরণ, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত মূল চক্র, অর্থের উৎস এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে স্বর্ণ চোরাচালান আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/রই