ফেনীতে খালেদা জিয়ার স্বপ্নের ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট

ফেনীতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় দেশের সম্ভাবনাময় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এখন নানা সংকটে ধুঁকছে এটি। শিক্ষক সংকট, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আর শিক্ষার্থীদের নানামুখী ভোগান্তিতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। অথচ এই প্রতিষ্ঠান থেকেই ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।
ফেনী শহরতলীর রানীরহাটের পশ্চিম পাশে দুই একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে। ২০০৬ সালের ৭ জুন প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়।
শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিনির্ভর বিশেষায়িত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় একসময় চালু করা হয়েছিল দ্বিতীয় শিফটও। বর্তমানে তিনটি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে পড়াশোনা করছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে চলছে।
৬৩টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। দুই উপাধ্যক্ষের পদই খালি। ১০টি চিফ ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে আছেন মাত্র দুজন। ২৬টি ইন্সট্রাক্টর পদের মধ্যে কর্মরত পাঁচজন এবং ২৬টি জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে রয়েছেন ১১ জন। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাই কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু শিক্ষক সংকট নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবেও ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। ৯৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। শূন্য রয়েছে ৭৪টি পদ। এর মধ্যে ৬৮টি ক্রাফট ইন্সপেক্টর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক, চিকিৎসা, হিসাবরক্ষণ ও সহায়ক পদেও রয়েছে জনবল সংকট।
সব মিলিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ১৬২টি পদের মধ্যে ১১৯টি শূন্য নয়, বরং হিসাব অনুযায়ী মোট ১৬২টি পদের মধ্যে শূন্য ১১৯টি—তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে উল্লেখিত মোট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী পদের হিসাবে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৯টি।
ভোরের আকাশ/ এনউব