শিরোনাম
শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতেরগ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীনেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিক নিহতশপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদের দুই নবনির্বাচিত সদস্যরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীনিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করল আমিরাতমিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধশাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতেরগ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীনেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিক নিহতশপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদের দুই নবনির্বাচিত সদস্যরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীনিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি করল আমিরাতমিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত

ছয় দফা দাবিতে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছয় দফা দাবিতে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ
ছয় দফা দাবিতে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সহপাঠীরা। 

দুর্ঘটনার প্রতিবাদ এবং ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় একটি বাস তাঁদের সামনে এসে থামে। ঠিক তখনই পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে বাসটি উল্টে গিয়ে মাইশার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সহপাঠীরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেললাইনেও অবস্থান নেন। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা দায়ের, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লরিচালককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং চালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রধান ফটক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, এর আগেও একই স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই ঘটনার পর আলোচনা ও আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০১৮ সালেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এবার তাঁরা এমন কার্যকর পদক্ষেপ চান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।

তিনি আরও বলেন, দায়ীদের বিচার, যথাযথ জবাবদিহি এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার মতো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।

অন্য এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের দাবিগুলো প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে সরাসরি ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। শুধু মৌখিক আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেবেন না। ইউএনও কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও তাঁদের কাছে যথেষ্ট নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আলম বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভোরের আকাশ/রই

শেয়ার করুন: