দিনাজপুর পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরা ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা

দিনাজপুরের পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি দিনাজপুরের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলমগীর, পিপিএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী জেলার বাঘা থানা পুলিশের সহায়তায় বাঘা থানাধীন সুলতানপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি Realme Narzo 60 5G অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি GDL Classic বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার নাঈম ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে নাটোর জেলার লালপুর থানাধীন মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. রিন্টু আলী (২৯) নামে দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি Helio 62 অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি GDL G2 বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, রিন্টু আলী দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ০১৩২২-৫১১১৮৬ নম্বরের সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পরিচালনার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে নাটোর জেলার লালপুর থানাধীন মির্জাপুর গ্রাম এবং রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন জোতরাঘব গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. আশিকুর রহমান (১৯) ও মো. রজব আলী (২৩) নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি Oppo Reno7 5G এবং একটি Vivo Y12s অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পরিচালনা করত। এসব আইডি ব্যবহার করে নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো। পরে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
মো লুৎফর রহমান লাইসুর জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর।
ভোরের আকাশ/ এনউব