সারিয়াকান্দিতে ফলাফলে মিশ্র চিত্র, জিপিএ-৫ শীর্ষে পাইলট বালিকা বিদ্যালয়

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশ্র চিত্র। উপজেলার ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে পাস করাতে সক্ষম হলেও কিছু বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। তবে জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে উপজেলার সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় এবার পাসের হার ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সারিয়াকান্দির ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৭ জন। এর ফলে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এবার উপজেলার শীর্ষে রয়েছে সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৫২ জন। এর মধ্যে ২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মথুরাপাড়া বি কে উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর ১০ জন করে জিপিএ-৫ পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলবাড়ি গমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপজেলার সব বিদ্যালয়ে ফলাফলের চিত্র সমান নয়। সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ফুলবাড়ি গমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৮১ শতাংশের বেশি। বিপরীতে চালুয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার মাত্র ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সর্বনিম্ন পাসের হার। এছাড়া আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষাতেও তুলনামূলক ভালো ফল করেছে সারিয়াকান্দি। উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৭২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ হিসাবে ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার ৭০ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। সর্বোচ্চ পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানে এ হার ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।
ফলাফল প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের ফলাফলে তারা সন্তুষ্ট নন। তার ভাষ্য, ফ্যাসিস্ট আমলের শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব এবং লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এসব বিষয় ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে উপজেলার শীর্ষে থাকা সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাকী মোঃ জাকিউল আলম ডুয়েল বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক মেয়ে বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। এবারের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই বিবাহিত। এরপরও বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ অর্জনের সাফল্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলার ফলাফল কিছুটা কমে থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে অভিভাবকদের অসচেতনতাকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফলে সারিয়াকান্দির কিছু প্রতিষ্ঠান আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখালেও কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফলাফল উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের কারণ চিহ্নিত করে তা অন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কম পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, মানসম্মত পাঠদান, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামীতে উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা