শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুরে ভেলুয়া নদীর ভাঙনে বিলীনপ্রায় মুসলিমপাড়া জামে মসজিদ

এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের মনফল গ্রামের মুসলিমপাড়া জামে মসজিদটি ভেলুয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুপথযাত্রী এক ধর্মীয় নিদর্শন। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষদের ত্যাগ ও শ্রমে নির্মিত এই মসজিদটি এখন নদীর তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

২০০৫ সালে সমাজসেবক আফতাব মোল্লার নেতৃত্বে এলাকার মুসল্লিদের অর্থায়নে নির্মিত এই জামে মসজিদটি ছিল স্থানীয় মুসলমানদের একমাত্র নামাজের কেন্দ্র। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আশপাশের শতাধিক মুসল্লি এখানে জড়ো হতেন। শুক্রবারে মসজিদটি পরিণত হতো এক পবিত্র মিলনস্থলে।

কিন্তু আজ সেই পবিত্র স্থাপনাটির দেহে লেগেছে নদীভাঙনের গভীর ক্ষত। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন শতাংশ জমির উপর নির্মিত মসজিদটির এখন মাত্র এক শতাংশ জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। তিনদিকে নদীর পানি থৈ থৈ করছে, মসজিদটি কোনোরকমে টিকে আছে ভাঙনের কিনারায়। স্থানীয়দের চোখে আতঙ্ক একটি ঢেউ এলেই হয়তো মসজিদের শেষ ভরসাটুকুও ভেঙে পড়বে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. খলিল রহমান বলেন, আমি সাত বছর ধরে এখানে ইমামের দায়িত্ব পালন করছি। প্রথম দিকে মসজিদটি পুরোপুরি অক্ষত ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীর ভাঙনে এর বেশিরভাগ জায়গা হারিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে পাইলিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা টেকেনি। এখন একমাত্র উপায় মসজিদটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা।

মুসুল্লি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কষ্ট করে এই মসজিদটি গড়ে তুলেছিলাম। এখন ভাঙনের কারণে তা টিকে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমাদের পক্ষে নতুন করে জমি কেনা সম্ভব নয়। যদি সরকারিভাবে খাস জমি বরাদ্দ পাই, তাহলে আমরা নতুন স্থানে এই মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করতে পারব।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আজিত সেখ জানান, ২০০৫ সালে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করে আমরা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলাম। কিন্তু ভেলুয়া নদীর ভাঙন এতটাই ভয়াবহ যে এখন তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে একদিন হয়তো এখানে শুধু নদীর স্রোতের শব্দই শোনা যাবে।

স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা জানান, এই মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয় এটি  তাদের হৃদয়ের আশ্রয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। এখানে শিশুদের কোরআন শিক্ষা হতো, রমজানে তারাবি ও ইফতার মাহফিল বসত, ঈদের নামাজে চারদিক ভরে উঠত তাকবিরের ধ্বনিতে।

স্থানীয়দের আহ্বান, সরকার ও দানশীল ব্যক্তিরা যেন দ্রুত উদ্যোগ নেন যাতে মনফল গ্রামের এই পবিত্র মসজিদটি বাঁচানো যায়। একটি মসজিদ হারিয়ে যাওয়া মানে  এক সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল, যেখানে প্রতিদিন উচ্চারিত হতো আল্লাহু আকবর-এর ধ্বনি।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসজিদের বিষয়টি খোঁজ নেবেন। মসজিদের যদি নিজস্ব জমি থাকে, সেখানে ঘর নির্মাণের সহযোগিতা করা হবে। আর যদি নিজস্ব জমি না থাকে, আশেপাশে খালি জায়গা খুঁজে খাস জমিতে মসজিদটি পূর্ণ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/জাআ

জামে মসজিদপিরোজপুর

শেয়ার করুন: