কুয়েটে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ‘বই উৎসব–২০২৬’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ‘বই উৎসব–২০২৬’। ১ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ও SWC প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এ সময়ে জ্ঞান আহরণের মাধ্যম বহুমাত্রিক হলেও মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্ব ও আবেদন এখনো অটুট রয়েছে। মুদ্রিত বই মনোযোগ দিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে, চিন্তার গভীরতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, কুয়েটে বই উৎসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী মো. রকিবুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. মো. শরিফুল ইসলাম এবং সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী।
উদ্বোধন শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর বই উৎসবের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত বই পরিদর্শন করেন, স্টল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের বই সংগ্রহ ও নিয়মিত পাঠে উৎসাহিত করেন।
কুয়েটের বইপ্রেমী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এ উৎসবে জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই স্থান পেয়েছে। ১০ দিনব্যাপী এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার নতুন পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/জেআ