শ্রীপুরে কাজ শেষ হওয়ার আট মাসেই ধসে পড়ছে ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে কাজ শেষ হওয়ার আট মাসেই ধসে পড়ছে ৯ কোটি টাকার সড়ক। এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে উপজেলার রাজাবাড়ি বাজার থেকে গাজীপুর ডিসি অফিস অভিমুখী আঞ্চলিক সড়কে। রাজাবাড়ি বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের সূতি নদীর পাড়ে ব্লক দিয়ে বাধাই করা সড়কে এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে একাধিকবার করা হয়েছে মেরামত। তবু শেষ রক্ষা করতে পারেনি ঠিকাদার। ত্রুটিপূর্ণ এ কাজ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অবস্থা।
সামান্য বৃষ্টির পানিতেই সড়কের এক পাশ ধসে যাচ্ছে নদীতে। এরই মধ্যে ঠিকাদার তুলে নিয়েছে প্রকল্প কাজের সব টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ করেছে। সড়কের বর্ধিত অংশের মাটি ঠিকভাবে বসানো হয়নি। যেন-তেন ভাবে বসানো হয়েছে পাড়ের ব্লক।
জানা যায়, উপজেলার রাজাবাড়ি বাজার থেকে গাজীপুর ডিসি অফিস অভিমুখী সড়কটি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের সূতি নদীর পাড় ঘেষে গেছে। রাজাবাড়ি বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা পর্যন্ত ৫.৪০ কিমি সড়কের কার্যাদেশ পায় যৌথ মালিকাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম-দূর্গা এন্টার প্রাইজ। কার্যাদেশ পেয়ে প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজ শুরু করে ২০২১ সালে। ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারের গাফলতিতে কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের শেষের দিকে। নির্মাণ কাজ শেষ করেই সব বিল তুলে নেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৯ কোটি টাকার কাজ টিকেনি নয় মাস। কাজ শেষের আট মাস না যেতেই সড়কের পাড় ধসে পড়ছে পাশের নদীতে। প্রায় এক কি.মি সড়কের একাধিক স্থানে সড়ক ডেবে যাচ্ছে। দমদমা গ্রামের মসজিদের পাশে সবচেয়ে বড় অংশ ডেবে যাচ্ছে। এখানে প্রায় আধা কি.মি সড়ক ব্লকসহ সড়কের পাড় নদীতে ডেবে যাচ্ছে। নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কটি বেহাল দশা এমন দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, শুরু থেকেই নদীর পাড়ে নিন্মমানের কাজ করেছে। সড়কের কাজ করার সময় প্রতিবাদ করেছি। ঠিকাদার শুনে নাই। উল্টো তাদের মামলার ভয় দেখানো হয়েছে। নদীর পাড়ের অংশ যেন-তেন ভাবে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ভালো ভাবে মাটি বসানো হয়নি। ঈদের আগে তরিঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে। ঠিকাদারের লোকজন বলেছে তাদের জামানত আছে। যতবার ভাঙবে এক বছর পর্যন্ত ঠিক করে দিবে।
স্থানীয় বাবুল মিয়া বলেন, কয়েকদিন হলো সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সড়ক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভালো করে কাজ করা হয়নি। আবুল হাসান বলেন, আমি এ সড়কে চলাচল করি। শুরু থেকে কাজ হয়েছে নিম্নমানের। কয়েকদিন হয় কাজ শেষ করেছে। সড়কের পাড় নদীতে ডেবে যাচ্ছে। এর আগেও ঠিক করা হয়েছে। আবারো ঠিক করা হচ্ছে। এভাবে জোড়া তালি দিয়ে সড়ক কতদিন টিকে থাকবে।
মোবাইল ফোনে কথা হয় সালম-দূর্গা যৌথ মালিকানা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আ.সালাম খানের সাথে। তিনি বলেন, সঠিক-বেঠিক কিছু নাই। নদীর সাইড, খালের সাইড ভাঙবেই। এক দুই তিন বার ভাঙবে। আমরা ঠিক করবো। আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। দেড় কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। বর্ষায় কিছু ঠিক করবো। রাস্তা ঠিক করলেই সরকার বাকী টাকা দিবে।
উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। সড়কটি নদীর পাড় ডেবে যাচ্ছে। সাত আট মাস আগে কাজ শেষ করে সমস্ত বিল নিয়ে গেছে ঠিকাদার। ঠিকাদারের প্রয় নব্বই লাখ টাকা জামানত রয়েছে। ওই টাকা থেকে সড়ক ঠিক করা হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম