দাগনভূঞায় ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগ বা ‘টপসয়েল’ কর্তন রোধে গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোররাত আড়াইটা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এক ব্যক্তিকে আটক করে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ এবং খননযন্ত্র ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীপুর এলাকার বাগডুবি বাজার সংলগ্ন স্থানে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি মাটিকাটার কাজে জড়িতদের।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে কৃষি জমির ক্ষতি করে মাটি কাটা হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসনের একটি বিশেষ দল। এ সময় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আব্দুল মান্নান সোহেল (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থলেই বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আটককৃত আব্দুল মান্নান সোহেলকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর বা ভেকু মেশিন ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসা সম্ভব না হওয়ায় সেটিকে কারিগরি উপায়ে অকেজো করে দেওয়া হয়, যাতে এটি দিয়ে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম চালানো না যায়।
দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর দুটি চৌকস দল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও উর্বরতা নষ্টকারী চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.