শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রেলের জমিতে ‘লিজ যুগ’ শেষ

অবৈধ দখল-অনিয়মে কঠোর অবস্থানে সরকার

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২ আগস্ট ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিস্তীর্ণ জমি ও স্থাবর সম্পদের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সরকার। 

নতুন করে রেলের কোনো জমি আর লিজ দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, বর্তমানে কার্যকর থাকা লিজগুলোও পর্যায়ক্রমে খতিয়ে দেখা হবে। যেখানে আইনি বাধা থাকবে না, সেখানে বাতিল করা হবে বিদ্যমান লিজ। একই সঙ্গে রেলের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, সম্পদের অপব্যবহার কিংবা অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। 

সরকারের এই ঘোষণাকে রেলওয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের জমি লিজ, অননুমোদিত স্থাপনা, অব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকারের সর্বশেষ অবস্থানকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় নতুন নীতিগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলের কোনো জমি নতুন করে লিজ দেওয়া হবে না। বর্তমানে যেসব লিজ রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ ও আইনগত পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা থাকবে না, সেসব লিজ বাতিল করে জমিগুলো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হবে। 

রেলের প্রতিটি ইঞ্চি জমি জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সম্পদ ব্যক্তিগত বা সীমিত স্বার্থে নয়, জাতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, রেলের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি শুধু একটি স্থাবর সম্পদ নয়, এটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রেলপথের দুই পাশে থাকা জমি ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন সম্প্রসারণ এবং নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক এলাকার কাছাকাছি রেলওয়ের অনেক জমি রয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে এসব জমিতে আধুনিক রেল স্টেশন, লজিস্টিক হাব, পণ্য পরিবহন কেন্দ্র, পার্কিং সুবিধা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের জমিকে শুধুমাত্র রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সম্পদ হিসেবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অব্যবহৃত জমি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন সময়ে রেলের জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। 

নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব জমি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে লিজের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, জমি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। শুধু নতুন লিজ বন্ধ করলেই হবে না; বিদ্যমান লিজের মেয়াদ, চুক্তির শর্ত, ব্যবহার, রাজস্ব আদায় এবং আইনগত অবস্থাও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। 

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ, নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক কাঠামো। এতে রেলওয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। 

চট্টগ্রামে রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এসব স্থাপনা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পেলেই তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। 

তাই অভিযোগ এলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রেলওয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিসরের জমি ব্যবহার করা গেলে তা ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে। রেলের জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।

রেলের জমি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন শুধু সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাহিদা বাড়ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রাসময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে। এতে শুধু যাত্রীসেবার উন্নয়নই নয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনেও নতুন গতি আসবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেল যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

রেলওয়ের উন্নয়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতা এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো ঘোষণার বাস্তবায়ন। নতুন লিজ বন্ধের সিদ্ধান্ত, বিদ্যমান লিজ পর্যালোচনা, অভিযোগের তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

রেলওয়ের জমি ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণেই নয়, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত রেলওয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এখন অপেক্ষা এর কার্যকর বাস্তবায়নের।

ভোরের আকাশ/রই 

হাবিবুর রশিদ

শেয়ার করুন: