শ্রীপুরে কিস্তির টাকার জন্য মেয়ের জামাই কে পিটিয়ে মারার অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কিস্তির ১৪ হাজার টাকার জন্য মেয়ের জামাতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শশুর ও শশুরবাড়ীর আত্নীয় স্বজনের বিরুদ্ধে । ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী গ্রামের কুমার ভিটা এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রুহু্ল আমীন(৩৮) ওই গ্রামের মো. আতাহার উদ্দিনের পুত্র । তিনি পেশায় সিএনজি চালক।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন, শশুর রফিক ফকির,মেয়ে রিমা, শ্যালক শাজাহান ফকির, চাচা শশুর তাজ উদ্দিন কে আটক করেছে।
বাড়ির লোকজনের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান,রাত আটটার সময় রুহুল বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে ফেরেনি। সকালে তারা বাড়ির পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়।
নিহতের স্ত্রী হালিমা ও কন্যা রিমি জানান, শুক্রবার রাত আটটার দিকে রুহুল বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরেন নি। রাতে তাকে কেউ খোঁজও করেননি। সকাল ছয়টার দিকে তারা বাড়ির পাশে মরদেহ দেখতে পায়। এসম রাতে ঝগড়া মারপিটের কথা অস্বীকার করেন তারা।
নিহতের বোন ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে এসে বাড়ির পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। ভাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে শশুর বাড়িতে থাকতেন। কিস্তির টাকা নিয়ে বাড়ির লোকজন রাতে ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে। তার ছোটমেয়ে আফরানের কাছে শুনেছি বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে বাড়ির বাড়ির পাশে ফেলে গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন শশুর বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
নিহতের বড় ভাই লিটন অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির লোকজন আমার ভাইকে কিস্তির টাকার জন্য পিটিয়েছে। পরে তাকে মেরে বাড়ির পাশে মরদেহ ফেলে নিখোঁজের নাটক সাজায়। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে মরদেহ দেখতে পায়।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আবুল বাসার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ রুহুলের শশুর বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটাস্থল থেকে পাঁচ জনকে আটক করা হয়।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব