গাজীপুরে বর্নিল আয়োজনে ভক্তদের হুমায়ূন স্মরণ

বৃষ্টি আর প্রকৃতি প্রেমী জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ। তাই তার মৃত্যু দিবসেও অমর কানন নূহাশ পল্লীতে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।আর প্রকৃতির এ প্রতিকূল পরিবেশেও ভক্তরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন হুমায়ূন আহমেদের স্বরনে। হলুদ পাঞ্জাবী পড়া হিমু পরিবারের সদস্যরাও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে কোরআন খানি, দোয়া, মিলাদ ও এতিমদের খাবার বিতরণসহ নেয়া হয় বর্নিল নানা আয়োজন।রবিবার সকাল থেকেই গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।
আশেপাশের কয়েকশ’ এতিম শিশুরা দিনব্যাপি এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার দুই পুত্র সন্তান নিষাদ ও নিনিদকে সাথে নিয়ে নুহাশ পল্লীতে সাড়ে ১১টার দিকে হুমায়ুন আহমেদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। তিনি এসময় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় অংশ নেন। এছাড়া হুমায়ন ভক্ত, হিমু ও রুপার চরিত্র সেজে প্রিয় লেখকের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনেকে।
কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন আজ ১৪ বছর। নূহাশ পল্লীর কর্মকর্তা ও আমরাই হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করে থাকি। এর বাইরে সরকার, রাষ্ট্র কারো কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আগেও ছিল না।
নুহাশপল্লীতে আগত দর্শন্যার্থীরা বলছেন, হুমায়ূন না থাকলেও তিনি তার অমর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরন ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। তবে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হুমায়ুন তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এদেশে ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার অনুরাগীদের। অমর সৃষ্টিই আমাদের কে হুমায়ুন আহমেদের কথা মনে করিয়ে দেয় বারবার।
ভোরের আকাশ/এনউব