দুই দশকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: অর্জন, প্রত্যাশা ও আগামীর ভাবনা

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দুই দশকের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাকে গর্বিত করে। একই সঙ্গে আগামী দিনে কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও দেশের কৃষির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
আমার বিবেচনায়, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না; বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, গবেষণার মান এবং কৃষক ও কৃষির বাস্তব সমস্যার সমাধানে তাদের অবদানই হওয়া উচিত সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা, খরা, তাপপ্রবাহ, নতুন রোগবালাই, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে গবেষণার অগ্রাধিকার দিতে হবে। আগাম বন্যা সহনশীল ধানের জাত, স্বল্পমেয়াদি ফসল, পানি ব্যবস্থাপনা, পাহাড়ি ও টিলাভূমিতে টেকসই চাষাবাদ, ফল-সবজি উৎপাদন এবং মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন হতে পারে সিকৃবির গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।গবেষণার ফল যেন গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফসলের ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় উন্নয়নে গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনবল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।২০০৬ সালের ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাতটি অনুষদ ও ৪৭টি বিভাগ রয়েছে।
এই বিস্তৃত শিক্ষাগত ও গবেষণাগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় কৃষি উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।আগামী দিনের সিকৃবির লক্ষ্য হওয়া উচিত দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন কৃষিবিদ তৈরি, মানসম্মত গবেষণার প্রসার, কৃষকের সঙ্গে গবেষণার সংযোগ বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি।
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পাশাপাশি দেশের কৃষকের প্রয়োজনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।সিকৃবির সবচেয়ে বড় অর্জন হবে এমন মানবসম্পদ তৈরি করা, যারা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কৃষকের বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবেন। গত দুই দশকের অর্জন হোক আগামী দিনের সম্ভাবনার ভিত্তি।
ভোরের আকাশ/ এনউব