শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঝুঁকিপূর্ণ ডেমরা–চনপাড়া সেতুতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মো: শরীফ ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বালু নদীর ওপর নির্মিত ডেমরা–চনপাড়া সেতুটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি ঢাকার ডেমরা এলাকা ও রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষ, পোশাকশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে তাদের এই পথেই চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর বিভিন্ন অংশে পলেস্তরা খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। কয়েকটি পিলারের নিচের অংশেও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত বাড়লে সেতুর ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থার মধ্যেও সেতুর ওপর দিয়ে ট্রাক, বাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল করছে, যা সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

জানা যায়, ২০০০ সালে প্রথমবার সেতুটিতে ফাটল দেখা দিলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২০১২ সালে সেতুটির বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষয় ও পলেস্তরা খসে পড়ায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। সে সময় ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা রফিক ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে স্কুল ও কর্মস্থলে যাই। কিন্তু সব সময় ভয় কাজ করে। বড় গাড়ি উঠলেই মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে।”

স্থানীয় গৃহবধূ শিউলি বেগম বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কিন্তু এই ব্রিজ ছাড়া আমাদের আর কোনো রাস্তা নেই।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সেতুটির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সেতুটি ভেঙে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কবে নাগাদ নতুন সেতুর কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। তারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, ডেমরা–চনপাড়া সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর নয় আশ্বাস, দ্রুত ডেমরা–চনপাড়া সেতু সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হোক। তা না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

ভোরের আকাশ/ র.ই

দুর্ঘটনার শঙ্কাশিউলি বেগম

শেয়ার করুন: