তেঁতুলিয়ায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার, দুই জেলের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পরে তাঁদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চরলক্ষীবর্ধন গ্রামের মো. মামুন ইসলাম (২৩), মো. কামাল হোসেন (২৫), মো. রবিউল মৃধা (১৩) ও মো. মোহাম্মদ খান (১৫)।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল জানান, অভিযানে আটক চারজনের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইলিশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা: মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে।
মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০-এর অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনের ৫(১) ধারায় অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান উল্লেখ রয়েছে।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদীতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/ এনউব