ফরিদপুরে জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৬ তম আবির্ভাব উৎসব

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গণে উদযাপন করা হচ্ছে জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৬ তম আবির্ভাব উৎসব।
এ উপলক্ষে শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা ধর্মীয় উৎসব। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ছিলো এ উৎসবের ষষ্ঠ দিন। বাংলাদেশ মহানাম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে নয় দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীপ্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের স্মৃতিধন্য এই পবিত্র তীর্থভূমিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গণ। প্রভুর আশীর্বাদ আর কৃপা লাভের আশায় এসব ভক্ত বৃন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে হরিনাম সংকীর্তন আর ভক্তিভরে প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়ে শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গণে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে উৎসবকে কেন্দ্র করে এই পবিত্র স্থানটি পরিদর্শন করেছেন উচ্চপদস্থ সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিজন কান্তি সরকারের বিশেষ সহকারী শ্রীঅঙ্গন পরিদর্শন করেন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করেন।
এ ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও নিয়মিত পরিদর্শন করছেন শ্রীপ্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের স্মৃতিধন্য এই শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গণ। একই সাথে এ উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে চোঁখে পড়ার মতো। যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে উৎসব উপলক্ষে ফরিদপুর শ্রীঅঙ্গণ সংলগ্ন মহিম ইনিস্টিটিউটের মাঠে নয়দিনব্যাপী গ্রামিণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলায় আবহমান বাঙালির সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত সামগ্রী, প্রদর্শন ও বিকিকিনির ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ মহানাম সম্প্রদায়ের সাধারন সম্পাদক মৃগাঙ্ক শেখর ব্রহ্মচারী বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের সমাগমে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ।
তিনি বলেন, দুরাগত ভক্তদের থাকা ও খাওয়া যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপশি এ উৎসবে আগত প্রত্যেক ভক্তদের প্রতিদিনই সকাল ৭ টা হতে রাত ২-৩ টা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ করা ছাড়াও ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠের মধ্যে দিয়ে নয় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। যা আগামী ২ মে শনিবার জগদ্বন্ধু সুন্দরের ভোগ আরাধনা, নগর কীর্তন, জলকেলি, উৎসবের পূর্ণাহুতি ও ফুলদোলের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই