শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নাজিরপাড়া অতিথি পাখির অভয়াশ্রম, মানুষ নয়, যেন পাখিরাই রাজা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য ভিড় করছে নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি। ভোর হলেই শত শত পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গাছের ডালে ডালে বাসা বেঁধে ডিম পাড়া ও ছানা ফোটানোর পাশাপাশি পাখিদের অবাধ বিচরণে নাজিরপাড়া পরিণত হয়েছে অনন্য এক পাখির আবাসস্থলে।

প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে নাজিরপাড়াকে বেছে নিচ্ছে। জুন-জুলাই মাসে পাখিরা এখানে এসে গাছের ডালে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় এবং ছানা ফোটায়। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থানের পর নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে বংশবিস্তার শেষে তারা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বড় বড় গাছজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা ও ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে। কোনো গাছে সদ্য ফোটা ছানা মাথা উঁচু করে বসে আছে, আবার কোথাও মা পাখি ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির কলকাকলি ও ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।

পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী, দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীদের আগমন ঘটে। অনেকেই পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান আজাদ বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর এসব পাখি নাজিরপাড়ায় আসে। শামুকখোলের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি ও রাতচরা পাখিও রয়েছে। কেউ পাখি শিকার করতে এলে গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা মিলে তা প্রতিহত করেন। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছরই এখানে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, সকালে পাখির ডাকেই ঘুম ভাঙে। তবে পাখির মলমূত্রে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। পৌরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি কমবে।

আরেক বাসিন্দা তমিজদার রহমান খোকা বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে নাজিরপাড়ায় শামুকখোল, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির বক আসছে। এসব পাখি দেখতে সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসেন। গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই পাখি শিকার করতে দেন না।

আরও পড়ুন

জীবননগরে জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল আলম বলেন, এই পাখির কারণেই নাজিরপাড়া পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পাখি দেখতে এখানে আসেন। পাখির মলমূত্রের কারণে কিছুটা অসুবিধা হলেও গ্রামের মানুষ তা মেনে নিয়েছেন। তবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন।

নাজিরপাড়ার এই পাখির আবাসস্থল শুধু স্থানীয়দের বিনোদনের জায়গা নয়, এটি পঞ্চগড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যেরও এক অনন্য সম্পদ। স্থানীয়দের সচেতনতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নাজিরপাড়ার এই ঐতিহ্য টিকে থাকবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: