অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়কে অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ সিডিএর

অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়কের ফুটপাত ও নালা দখল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন।
সোমবার সকালে সড়কটির চলমান সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নালার মুখ বন্ধ করে দেওয়া এবং ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানি ঠিকভাবে নালায় নামতে না পারায় তা সড়কেই জমে থাকে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, খানাখন্দ তৈরি হয় এবং যান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। অথচ এসব অব্যবস্থাপনার দায় অনেক সময় সিডিএর ওপর চাপানো হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলীরা যেভাবে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নকশা করেছেন, সেটি বাস্তবায়িত না হলে যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই টেকসই হবে না। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ফেলার কারণে পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নালা পরিষ্কার করা এবং পানি প্রবাহ পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে বসানো অস্থায়ী দোকান, ভ্যানগাড়ি ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন যে, পরবর্তীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও পথচারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দোকানের সামনে আবর্জনা, পলিথিন বা নির্মাণ বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
সড়কের স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে তিনি দখল হয়ে যাওয়া নালার ওপর নির্মিত ঢালাই অপসারণ, প্রয়োজনীয় অংশে নতুন স্ল্যাব স্থাপন এবং পানি প্রবাহের পথ সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, চট্টগ্রাম শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। এসব কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়কে চলমান অভিযানকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয়দের সচেতনতা এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/ র.ই