ডিমলায় তিস্তা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন, ৩৬ লাখ টাকার পাথর জব্দ

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন এবং মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন যৌথ টাস্কফোর্স। অভিযানে শুটিবাড়ী বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচটি অবৈধ পাথর মজুদের স্থান, পাঁচটি পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন ও পাথরবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পাথরের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ টাকা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা পাথরের পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হাজার ঘনফুট (সিএফটি)। স্থানীয় বাজারে প্রতি ঘনফুট পাথর ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। সে হিসাবে এসব পাথরের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের তথ্য ও পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজারসহ বিভিন্ন অবৈধ পদ্ধতিতে পাথর ও বালু উত্তোলন করে একটি চক্র শুটিবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় মজুদ করে আসছিল। পরে ক্রাশার মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে এসব পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযান শেষে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পরিবেশ ও তিস্তা নদীর ক্ষতি করে যারা আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পরদিন লোক পাঠিয়ে জব্দ করা পাথরের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, টাস্কফোর্সের অভিযানে জব্দ করা পাথরবোঝাই একটি ট্রাক থানা হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা