পুরানো বিম ব্যবহার করে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের কলবাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি আইরন ব্রিজে স্টিমেট (প্রাক্কলন) না মেনে কাজ করা এবং পুরোনো বিমসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পান কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মাসুম কাজী। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই প্রকল্পের স্টিমেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ না করার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব শেখ বলেন, ব্রিজের প্রতিটি স্লাবে পাঁচটি করে রড ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে চারটি রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ সুতা রডের পরিবর্তে ২.৫ সুতা রড ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন বিমের পরিবর্তে পুরোনো বিম ব্যবহার করেই ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন হাওলাদার বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম নয়, স্টিমেট অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে স্টিমেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার ও ইউপি সদস্য মাসুম কাজী বলেন, ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ স্টিমেট অনুযায়ী করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম (মিস্টার) বলেন, ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডির সদর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল বলেন, আমি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছি। স্টিমেট অনুযায়ী কাজ না হওয়ার বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি এবং স্টিমেট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রায় ৪৪ ফুট দীর্ঘ একটি রিপেয়ার প্রকল্প। নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প নয়। স্টিমেটে ২১টি স্লাব, একটি বিম, দুটি সাইড পোস্ট, ৩.৩ ইঞ্চি ওয়াটার বার এবং ২ ইঞ্চি সাইড অ্যাঙ্গেল উল্লেখ রয়েছে। পরিদর্শনের সময় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণকাজ তদারকি করে। কাজ স্টিমেট অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আমরা প্রত্যয়ন দেব, অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী লায়লা মিথুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, এটি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের অর্থে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম