বন্যার ধাক্কায় বিপর্যস্ত চকরিয়া-মাতামুহুরীর সড়ক ব্যবস্থা

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়ক ধসে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক সড়ক দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি কমলেও দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, দুই উপজেলার সড়ক অবকাঠামোর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী ও ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক এখনো চলাচলের অনুপযোগী।
এলজিইডি সূত্র জানায়, বন্যায় দুই উপজেলার ২৬টি সড়কের প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে সওজের আওতাধীন সাতটি সড়কে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে। তাদের দাবি, এলাকার ১০৩টি স্লুইসগেটের মধ্যে কয়েকটি আগে থেকেই অকার্যকর ছিল। এছাড়া অনেক সচল স্লুইসগেটের মুখে মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে সড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্লুইসগেটগুলো খুলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলার শান্তি বাজার–বুড়ির দোকান সড়ক, মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক। ভাঙন ও বড় গর্তের কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির নেতা ইমরুল হাসান হান্নান বলেন, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা বসতঘরও ক্ষতির মুখে পড়েছে। সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আসিফ নেওয়াজ বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়কই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারছে না।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, শান্তি বাজার থেকে বুড়ির দোকান পর্যন্ত সড়কটি হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, নিচু এলাকার সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
সওজের চকরিয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সওজের আওতাধীন সাতটি সড়কের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ