গৌরনদীতে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

নাশকতা পরিকল্পনার গোপন বৈঠক থেকে রোববার(২৫অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের গৌরনদীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ৭ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করে সর্বমোট ৪৫ জনের নামে ওইদিন রাতে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও মাহিলাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নাশকতার পরিকল্পনার গোপন বৈঠক করছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে গৌরনদী মডেল থানার একটি টিম এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত ছিল। গোপন সূত্রে পুলিশের টিম জানতে পারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বেশকিছু সক্রিয় নেতা-কর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আসন্ন ডিসেম্বর মাসে তাদের দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করার লক্ষে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকায় সৈকত গুহ পিকলুর বাসভবনের ভেতরে গোপন বৈঠক করছে।
ওই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেলের নির্দেশে থানা পুলিশের টহল টিমটি তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় বৈঠককারীরা পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদেরকে পিছু ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে এ সময় পা পিছলে পড়ে ৪জন আহত হয়। তাদেরকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই গৌরনদী উপজেলা যুবলীগ সদস্য সলিল গুহ পিন্টু (৪৫), গৌরনদী সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মহিবুল আলম (৫৫), গৌরনদী পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য ওয়াজ করনী (৫০), বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিথুন হালদার(৩২), মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার(৩০), গৌরনদী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মাসুম সরদার (৩৯), গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগ সদস্য মো. সজিব সরদার(২৯)।
এ ছাড়া মামলার এজাহারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু (৫০), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া (৫৫), গৌরনদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ইকতিয়ার হাওলাদার (৫৪), আওয়ামী লীগ নেতা মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা (৪০), মনির মীর (৪০), মেহেদী আকন (৩৮), জসিম মেম্বার (৩৮) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুবায়েরুল ইসলাম সান্টু ভূঁইয়া(৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ওই গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।
নাশকতা সৃষ্টির গোপন বৈঠক থেকে ৭জনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগের ব্যাপারে গোপন বৈঠকের আয়োজক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এরপর খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
ভোরের আকাশ/ এনউব