গাইবান্ধায় স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে দিনভর ধর্ষণের পরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন।
এর আগে গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী গতকাল সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সমাসপাড়া এলাকার একটি ট্রান্সফরমারের নিচ থেকে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়।
তারা আরও জানান, দুর্বৃত্তরা তাকে পাশের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুটানী বাজার এলাকার কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দিনভর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে বিকেল নাগাদ শিশুটিকে ‘আঁখ সেন্টারের’ পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
বিকেলে পথচারীরা শিশুটিকে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত্রীকালীন ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. ফাহাদ আল আসাদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্টের শিকার শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের পুলিশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যেই বা যারাই সম্পৃক্ত থাকুক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা পরিবারের পক্ষে থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি বলে জানান তিনি।
ভোরের আকাশ/ র.ই