সুনামগঞ্জে মাওলানা মুশতাক হত্যাকাণ্ডে হাফিজ গ্রেফতার
সুনামগঞ্জে নিখোঁজের তিনদিন পর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজী নগরীর (৫২) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জমিয়তের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নেতা আব্দুল হাফিজকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।
গ্রেপ্তার আব্দুল হাফিজ দরগাপুর গ্রামের আলিফ পাঠানের ছেলে। তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে জমিয়তের একাংশের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
মাওলানা মুশতাক আহমদের স্ত্রী রুবি বেগম বাদী হয়ে রোববার রাতে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিলেট শহর থেকে এক শ্বাসরুদ্ধকর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিখোঁজের রাতে নোয়াখালী বাজার এলাকায় মাওলানা মুশতাক আহমদকে সিএনজি অটোরিকশায় আব্দুল হাফিজ ও আরও দুজনের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম দাবি করেছেন, আব্দুল হাফিজ নির্দোষ এবং তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
তবে জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে গ্রেফতার আব্দুল হাফিজকে আজ দুপুরে সুনামগঞ্জের চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্টেট আদালতে নেয়া হলে সেখানে জমিয়তের শত শত নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। খুনিদের ফাঁসি ও রিমান্ডে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তাঁরা।
জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন মাওলানা মুশতাক। ৫ সেপ্টেম্বর সকালে দিরাই উপজেলার শরিফপুর এলাকার শ্যামনগর নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
ভোরের আকাশ/জাআ