‘আমি না থাকলে ওদের কী হবে’
চার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মায়ের হৃদয়বিদারক সংগ্রাম

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোট্ট ঘরে চলছে এক মায়ের অবিরাম সংগ্রামের গল্প। চার বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন জীবনযুদ্ধ লড়ছেন ফেরদৌসী বেগম। বহু বছর আগে স্বামী পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের সব দায়িত্ব একাই বহন করছেন তিনি।
পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে শরিফ উদ্দীন (২৭), শাবনুর খাতুন (২২), শাহিনুর খাতুন (১৫) ও আরিফ হোসেন (১৩) বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। শুধু বড় মেয়ে সাজেনুর খাতুন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন।
জমিজমা না থাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালানোর চেষ্টা করেন ফেরদৌসী। চার সন্তানের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই অর্থে চিকিৎসা, পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না।
বড় মেয়ে সাজেনুর জানান, চার ভাইবোনের প্রতিবন্ধিতার কারণে তাদের বাবা অনেক বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তাদের মা কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় অন্যের সহযোগিতা ছাড়া সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফেরদৌসী বেগম বলেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে একাই সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ছোট ছেলে আরিফ পঞ্চম শ্রেণিতে এবং মেয়ে শাহিনুর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। সীমিত আয়ের কারণে সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি না থাকলে ওদের কী হবে? এই চিন্তাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।"
তিনি জানান, সরকারি ভাতা কিছুটা সহায়তা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ এগিয়ে এলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই অসহায় পরিবারের সংগ্রাম সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে উঠেছে।
ভোরের আকাশ/এনএ