খুলনায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ জুন) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খুলনা জেলা প্রশাসন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপান মানবস্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। সুস্থ ও নিরাপদ জীবন গঠনে তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি পরিহারের কোনো বিকল্প নেই।”
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন প্রলোভন, যেমন কর্মসংস্থান, বিদেশে পাঠানোর সুযোগ কিংবা কনসার্ট আয়োজনের মতো কার্যক্রমে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। এসময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাকিয়া সুলতানা, কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে তামাকবিরোধী সর্বোচ্চ সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসানকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮ জন মানুষ তামাকের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। দেশে প্রায় চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক সেবন করে। প্রায় এক কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন এবং প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ জর্দা, গুল, সাদাপাতা ও খৈনিসহ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন।
এছাড়া প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং চার কোটির বেশি মানুষ নিজ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। দেশে ক্যান্সার রোগীদের ৪৬ শতাংশ তামাক ব্যবহারকারী এবং মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৫১ শতাংশের জন্য পরোক্ষ ধূমপান দায়ী বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে এর আগে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
ভোরের আকাশ/এম