নান্দাইল-হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া সড়কে দুর্ভোগ, ৩০ মিনিটের পথ যেতে ২ ঘণ্টা

কিশোরগঞ্জের নান্দাইল-হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের কারণে স্বাভাবিক সময়ে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে নিম্নমানের ইট, সুরকি ও বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল সড়কটি। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন অংশ ফের নষ্ট হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে অটোরিকশা, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে একদিকে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
জলসিঁড়ি পরিবহনের হোসেনপুর টিকিট কাউন্টারের কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, কয়েক বছর আগে এই সড়কে জলসিঁড়ি পরিবহনের প্রায় ৬০টি এবং বন্যা পরিবহনের ৩০টি বাস চলাচল করত। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রায় চার বছর আগে সংস্কার করা হলেও এক বছর না যেতেই সড়কটি আবার নষ্ট হয়ে যায়।
নান্দাইল থেকে মহাখালীগামী জলসিঁড়ি পরিবহনের বাসচালক অলি উল্লাহ বলেন, সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। নান্দাইল থেকে হোসেনপুর হয়ে পাকুন্দিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কটি সরু হওয়ায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলাচলেও সমস্যা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত বাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গর্তে গাড়ি পড়লে তীব্র ঝাঁকুনিতে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি কষ্ট পান।
যাত্রী শিউলী আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে জানালা বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।’
গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে নাগরিক কমিটির সভাপতি আলাল মিয়া বলেন, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, ময়মনসিংহের নান্দাইল এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইল ও হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সহজ পথ এই সড়ক। সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতের সময় কমবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও গতি বাড়বে।
পরিবহন চালক ও যাত্রীরা শুধু জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার না করে প্রয়োজনীয় মান বজায় রেখে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় এনে প্রশস্ত ও উন্নত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, হোসেনপুর পৌর এলাকা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তৈরি করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা