কুষ্টিয়ায় খালেই ব্যতিক্রমী ডিঙ্গি নৌকা বাইচ

কুষ্টিয়ার খোকসায় ছোট সরু খালে ব্যতিক্রমী ডিঙ্গি নৌকা বাইচের আয়োজনে মাতলেন কয়েক হাজার মানুষ। দুই পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস, আর মাঝিদের বৈঠার ছন্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজছে ঢোল, বাঁশি ও কাঁসি। নৌকা বাইচকে ঘিরে বসেছে গ্রামীণ মেলা। সব মিলিয়ে ছোট্ট একটি খালই যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের মাঠে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামের জয়ন্তী হাজরা মধ্যপাড়া সড়দার মোড় এলাকায় ডিঙ্গি নৌকার ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল গড়াতেই ঢোলের বাদ্য, দর্শকদের উল্লাস আর মাঝিদের হইহুল্লোড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জমজমাট এই আয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়ন্তী হাজরা মধ্যপাড়া সর্দার মোড় এলাকার (রহমত মেম্বারের জূলায়) তিন দিনব্যাপী এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। সমাপনী দিনে অংশ নেয় মোট ৮টি দল। ছোট ছোট নৌকায় ছিলেন ৮ থেকে ১২ জন মাঝি।
বাইচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে খালের দুই পাড়ে জড়ো হন স্থানীয় ও দুরের দর্শনার্থীরা। নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন মুহূর্তগুলো, কেউ আবার প্রিয় দলের জন্য দেন হাততালি ও স্লোগান। বাঁশি , কাসি আর ঢোলের তালে তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দে পুরো আয়োজন পরিণত হয় গ্রামীণ উৎসবে।
এদিকে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বসে তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা। মেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন হওয়ায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা রূপা মল্লিকা বলেন, আমরা সাধারণত নদীতে নৌকা বাইচ দেখেছি। আমাদের গ্রামের খালে এমন আয়োজন হবে, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। প্রথমবারের মতো আয়োজন হওয়ায় ছোট-বড় সবাই আনন্দ করেছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন হলে গ্রামের মানুষ আরও বেশি উৎসাহ পাবে।
স্থানীয় আসাদুজ্জামান বলেন, নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসেছে। ঢোলের শব্দ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর নৌকার প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে অন্যরকম আনন্দ হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং এলাকার মানুষকে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্যেই স্থানীয়দের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইউপি মেম্বার আজিজুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাইচকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসেছে। ঢোলের শব্দ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর নৌকার প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে অন্যরকম আনন্দ হয়েছে।
এদিকে নকআউট পর্বের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সোনার বাংলা দল বিজয়ী হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জোতপাড়া এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় হয় ভাই ভাই এক্সপ্রেস। বিজয়ী দলকে দেওয়া হয় একটি ওয়ালটন ফ্রিজ, দ্বিতীয় দল পায় ৩২ ইঞ্চি ওয়ালটন টেলিভিশন এবং তৃতীয় দলকে দেওয়া হয় একটি বাইসাইকেল।
বিজয় দল সোনার বাংলার মাঝিরা বলেন ,বিজয়ী দল সোনার বাংলার এক মাঝি বলেন, সরু খালে এমন আয়োজন আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। নৌকা বাইচে জিততে পেরে আমরা খুবই খুশি। প্রতিযোগিতায় সবাই অনেক চেষ্টা করেছে। গ্রামের মানুষ যেভাবে আমাদের উৎসাহ দিয়েছে, তাতে বৈঠা চালানোর সময় আরও বেশি শক্তি পেয়েছি। প্রথমবারের এই আয়োজন এত সুন্দর হবে ভাবিনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন নৌকা বাইচ হলে আমরা আবারও অংশ নিতে চাই।
পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) খালিদ বিন মনসুর, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস উজ জামান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) খালিদ বিন মনসুর বলেন, এটা গ্রামবাসী আয়োজন করেছে। আগ্রহের জন্য তারা ছোট আকারে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে নৌকা বাইচ করেছে এবং গ্রামীণ মানুষজন যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে তা প্রশংসনীয়। এখানে প্রচুর মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
ভোরের আকাশ/সু.পা