সারিয়াকান্দিতে সোলার প্রকল্পের খুঁটি এখন পৌরসভার বেড়ায়

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল যেসব খুঁটির, সেগুলো এখন দেখা যাচ্ছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভার বেড়া নির্মাণে।
সরকারি প্রকল্পের সরঞ্জাম নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে পৌরসভার অন্য কাজে ব্যবহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারিয়াকান্দি পৌরসভার প্রবেশ পথে বেড়া নির্মাণে বেশ কিছু খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলো দেখতে সোলার প্যানেল স্থাপনে ব্যবহৃত খুঁটির মতো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারি প্রকল্পের মালামাল ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত কোনো প্রকল্পের সরঞ্জাম নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করা হলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। সোলার প্রকল্পের খুঁটি যদি সত্যিই পৌরসভার বেড়া নির্মাণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পৌরসভার কাজে এল, কার অনুমতিতে এল এবং প্রকল্পের কাজে এগুলোর আর প্রয়োজন ছিল না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের মালামাল কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায়? যদি এসব খুঁটি পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, কিংবা অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকল্পের মালামাল নিয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্পের সরঞ্জাম কোথায়, কী অবস্থায় এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে—তার হিসাব সংরক্ষণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এ ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সোলার প্রকল্পের খুঁটি যদি পরিত্যক্তই হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পরিত্যক্ত হলো এবং পরিত্যক্ত মালামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৌরসভার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সারিয়াকান্দি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, “যে খুঁটিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত। এগুলো কোনো জায়গা থেকে তুলে আনা হয়নি।”
তার বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন, খুঁটিগুলো যদি পরিত্যক্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার নথি কোথায় এবং কী প্রক্রিয়ায় পৌরসভার বেড়া নির্মাণে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, সোলার প্রকল্পের নথি, মালামালের হিসাব, খুঁটিগুলোর ব্যবহার ও পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের সরঞ্জাম অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমোদন ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সরঞ্জাম ব্যবহারে এমন প্রশ্ন ওঠা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যও অস্বস্তিকর। তাই সোলার প্রকল্পের খুঁটি কীভাবে পৌরসভার বেড়ায় গেল এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
ভোরের আকাশ/রই