শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

জয়পুরহাটে বাইপাস সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে, অগ্রগতি নেই কাজের

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

জয়পুরহাটের বাইপাস সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে, টেন্ডর হলেও অগ্রগতি নেই কাজের। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জেলার শহরের দক্ষিণ বাইপাস সড়কটি এখন যেন প্রায় মরণ ফাঁদে রুপ নিয়েছে। শহরের কেন্দ্রিয় মসজিদ থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি পর্যন্ত এই দুই কি:মি: সড়কটির পুরোটাই খানা-খান্দায় নষ্ট হয়ে গেছে। পিচ-খোয়া উঠে  সড়কটির প্রায় জায়গায় বড় ধরণের গর্ত হয়েছে। আর ওই গর্তে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই বিকল হচ্ছে নানান ধরণের যানবাহন। অথচ শহরের যানজটের চাপ সামলাতেই এই বাইপাস সড়কটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।

জানা গেছে, জেলার দক্ষিণ অংশের মানুষদের জেলা শহরে সহজেই যাতায়াতের জন্য জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের সংযোগ স্থল দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে কেন্দ্রিয় মসজিদ পর্যন্ত দুই কি:মি: সড়ক নির্মাণ করা হয়। আর এই সড়কটি জেলায় দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক হিসেবেও পরিচিত। যার দৈর্ঘ্য মাত্র দুই দশমিক ১ কি:মি:। দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে অনেক বেশি।

প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে শত শত যানবাহন । বিশেষ করে এ জেলার সর্ববৃহত ‘নতুন হাটে’ যে সব গরুছাগল বেচা-কেনা হয় তার অধিকাংশই ট্রাকযোগে এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে হাটে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পণ্যবোঝায় ট্রাক, মেসি ও বালুর ট্রাক্টরগুলোও এ সড়কেই শহরকে বাইপাস করে চলাচল করে। কিন্তু জেলার গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সর্তেও দীর্ঘদিন সংস্কারে অভাবে সড়কটি একেবারে চলাচলেরল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে পুড়ো সড়কটিই এখন খানা-খন্দায় বেহাল দশা। আর মাঝেমধ্যেই বড় গর্তের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হেলে-দুলে চলাচল করছে পণ্য বোঝায় ট্রাকসহ অন্য যানবাহন ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি ভাঙাচুড়া অবস্থায় থাকায় রিকশা,অটোরিকশা ও অটো ভ্যান চলাচল করে না। ফলে অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জয়পুরহাট পৌরসভা লাইটিং ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে দরপত্র আহবান করেন। ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের ওই দরপত্রে কাজ পান মাহমুদা কন্সট্রাকশন নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশও দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের(২০২৬) মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মূলত মূল কাজ এখনো শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় দ্রুত কাজ শুরুর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর পর তিনটি তাগিদ পত্রও দেওয়া হয়েছে। তারপরও সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি।

দেবিপুর মহল্লার ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদসহ নাম নাবলার শর্তে অনেকে জানিয়েছেন, এই সড়কটি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন থেকে চরম দুর্ভোগে আছি। দীর্ঘ ভোগান্তির পর টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হবে হবে করে কাজ শুরু হচ্ছে না। ভাঙ্গা সড়কে যানবাহনে হেলে দুলে যাতায়াত করতে করতে আমাদের নাজেহাল অবস্থা।

সড়কের দু’পাশের বিভিন্ন মহল্লার ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি পেশার  মানুষের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কার কাজ না হওয়ায় খুব কষ্টে শহরে যাতায়াত করতে হয়। ছেলে-মেয়েরা পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে করতে হাঁপিয়ে গেছে। এ সড়কে কোন রিকশা-অটোরিকশা বা ভ্যান আর আসতে চায় না। খড়ার সময় কষ্ট হলেও যাতায়াত করা য়ায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেঁটেও যাওয়াই যায় না। সড়কের গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকে। অনেক সময় সেচ দিয়ে সড়কের পানি অপসারণ করতে হয়। শুনেছি সংস্কারের জন্য পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কাজতো শুরু হচ্ছে না।

নওগাঁ থেকে মালামাল নিয়ে আসা ট্রাক চালক আবুল মুনসুর জানান, দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে এ সড়কে ট্রাক চালাতে হয়। গাড়ি খুব দোল খায়। মনে হয়, এই বুঝি উল্টে যাবে। প্রায়ই দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।

এ বিষয়ে মাহমুদা কনস্ট্রাকশনের মালিক ঠিকাদার গাজী আবু জাফরের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি বলেন, সড়কটিতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে সড়কের মূল কাজ এখনো শুরু হয়নি। আশা করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জোরে শোরে কাজ শুরু হবে। আর দরপত্রে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলেও আশা করছি ।

জয়পুরহাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ন কবীর বলেন, কাজ শুরু না হওয়ায় কাজের অগ্রগতি জানতে চেয়ে ইতোমধ্যেই ঠিকাদারকে পর পর তিনবার তাগিদ পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরুর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী।

 

ভোরের আকাশ/আ.র

জনদুর্ভোগ

শেয়ার করুন: