রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে মাটি মিশ্রিত বালু ও পুরোনো ইটের খোয়া

গুরুদাসপুরে দুটি গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণেকাজের ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। রাস্তা দুটির কাজ পেয়েছেন নাটোরের মেসার্স হাবিবুর আলম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটি বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সেই রাস্তা নির্মাণকাজে খোয়া-বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি মিশ্রত বালু, নিম্নমাণের খোয়া ও পরিত্যাক্ত আধলা ইট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসি। উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া-সিনিয়র মাদ্রাসা হয়ে খুবজিপুর ভায়া সাহাপুর পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটারের ওই রাস্তায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি)।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের বেড তৈরিতে শিডিউল অনুযায়ী বালু ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি মিশ্রি বালু, পুরোনো ও আধলা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বালু-মাটির মিশ্রণের ওপর পুরোনো ইট ছড়িয়ে সেগুলো ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের লোকজনকে বললে তারা উল্টো এলাকাবাসীদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এ কারণে তাঁরা প্রকৌশলী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সড়কের বেড খনন করে বালু, মাটি ও খোয়ার মিশ্রণ দেখান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির প্রথম স্তরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ফেলা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্তরে বালুর সঙ্গে মাটি দিয়ে ইটের খোয়া মিশ্রিত অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া দ্বিতীয় স্তরে নির্ধারিত অনুপাতে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং কিছু কিছু জায়গায় পুরোনো আধলা ইটও পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা মাটি-বালু মিশ্রিভাবে ব্যবহার হরা হচ্ছে। আবার পরিত্যক্ত ইটগুলো ভেঙ্গে খোয়া বানানো হচ্ছে রাস্তার উপরেই।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া-সিনিয়র মাদ্রাসা হয়ে খুবজিপুর ভায়া সাহাপুর পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ও আনন্দনগর-সাহাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন নাটোরের মেসার্স হাবিবুর আলম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রুহুল আমিন বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৌশল দপ্তরের টিম দিয়ে এবং প্রয়োজনে ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা করা হবে। নিয়ম অনুযায়ীই মালামাল ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হবে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া বলেন, শিডিউল অনুযায়ী প্রথমে সড়কে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর দেওয়ার কথা। এর ওপর ৭ ইঞ্চি বালুর সঙ্গে সমপরিমাণ ইটের খোয়া মিশিয়ে বেড তৈরি করতে হবে। এরপর ৬ ইঞ্চি পাথরের ঢালাই দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তার দপ্তরের আপস নেই। শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগেরস প্রেক্ষিতে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র