দুই পায়ে রোগ, থমকে গেছে ৭ বছরের নাজুফার শৈশব

মাত্র সাত বছর বয়সেই দুরারোগ্য বাইল্যাটেরাল পার্থেস ডিজিজ (Bilateral Perthes’ Disease)-এ আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়েছে শিশু নাজুফা। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার বয়স এখন তার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এসবই যেন তার কাছে অধরা হয়ে আছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের সন্তোষ গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে নাজুফা। দীর্ঘদিন ধরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হবে। তবে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাজুফার বাবা জিল্লুর রহমান নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিবারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেই যেখানে তাকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায় নাজুফার কিছু চিকিৎসা করানো হয়েছে। তবে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
নাজুফার বাবা বলেন, ‘মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের আর্থিক সামর্থ্য খুবই সীমিত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাই।’
নাজুফার মা বলেন, ‘আমি নিজেও একজন প্রতিবন্ধী। আমি চাই না, আমার মেয়েকেও আমার মতো কষ্টের জীবন কাটাতে হোক। দেশবাসীর কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, অর্থের অভাবে নাজুফার চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহায়তায় নাজুফার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং সে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
ভোরের আকাশ/আ.র