গোপালগঞ্জে একই আসনে প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারই স্ত্রী ও জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রওশন আরা। এই ঘটনায় গোপালগঞ্জ ৩ আসনে ব্যতিক্রমী ও কৌতূহল উদ্দীপক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রওশন আরা মনোনয়ন জমা দেন। স্বামী ও স্ত্রীর এমন মুখোমুখি অবস্থান এখন গোটা জেলায় টক অব দ্য টাউন-এ পরিণত হয়েছে।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন বিকেলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার জহিরুল আলমের কাছে এস এম জিলানী দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্ধারিত সময়ের কিছু সময় আগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম জিলানী এর স্ত্রী রওশন আরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিষয়টি সর্বসাধারণের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে এটিকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে রওশন আরা বলেন, আমার স্বামী এস এম জিলানী বিএনপি এর মনোনীত প্রার্থী, আর আমি স্বতন্ত্র হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার সবার আছে তাই আমি নিজে প্রার্থী হয়েছি। মনোনয়নপত্র তুলে নিবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত লড়াই করব কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পরিস্থিতি তেমন হলে আমি অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি জয়ের ক্ষেত্রে আশাবাদী।
এ বিষয়ে এস এম জিলানীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এমনকি তার মুঠোফোনে কল দিলেও সেটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান তার বরাত দিয়ে বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। তিনি জিলানীর স্ত্রী হলেও ব্যক্তিগত বা কৌশলগত কোনও কারণে মনোনয়ন জমা দিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রত্যাহার সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদি তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করেন, তবে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। সেজন্য আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন। এই আসন থেকেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সকলেই জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ভোটারদের মাঝে এটি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিষয়টি এখন টক অফ দা টাউনে পরিণত হয়েছে।
ভোরের অঅকাশ/এসএইচ