সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে চালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং পেশাজীবী চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার পেশাজীবী গাড়িচালকরা অংশ নেন।
বিআরটিএ খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল চালকদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আধুনিক ধারণা প্রদান।
কর্মশালা পরিচালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক। তিনি নিরাপদ গাড়ি চালনা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া চালকেরা তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটি ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চাপ নিরাপদভাবে যানবাহন পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলেন, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান প্রশিক্ষক ও বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (প্রকৌশলী) তানভীর আহমেদ বলেন, একজন দক্ষ ও সচেতন চালকই সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারেন। তিনি বলেন, শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি যাত্রায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই একজন পেশাদার চালকের পরিচয়।
কর্মশালায় নিরাপদ ওভারটেকিং, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশলী) উসমান সরওয়ার আলম, উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চালকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিআরটিএ জানায়, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ চালকদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ভোরের আকাশ/জেআ