সিইআইজেড প্রকল্পে ৩৬ হাজার কর্মসংস্থান হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সরকার বলছে, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সোমবার আনোয়ারায় আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিইআইজেড প্রকল্প দেশের শিল্প খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এ শিল্পাঞ্চল দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বহুমুখী শিল্পায়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালু করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, উন্নত জীবনমান এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শুধু একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪ দশমিক ৩৯ হেক্টর) এলাকায় গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চলে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তার ভাষ্য, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলের পাশাপাশি বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত শিল্প গড়ে উঠবে, যা দেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রায় ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা এবং অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস চেয়ারম্যান লি চ্যাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জেআ