কুষ্টিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের মান ক্ষুন্ন করতে ব্যস্ত কুচক্রী মহল

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের ডিক্রিকৃত পাওনা আদায়ের লক্ষে কুষ্টিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ (সদর আদালত) নিশীথ রঞ্জন বিশ্বাসের এজলাসে একটি বিচারিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই নিলাম প্রক্রিয়াকে একটি স্বার্থন্বেষী মহল প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন গল্প কাহিনী, কল্পকাহিনী তৈরি করে, আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসএ খতিয়ান ১১৮৮, আরএস খতিয়ান ১২৩৯, নামজারী ১১৮৮/১ এবং এসএ ১১৬৯ ও আরএস ২০৯৬ দাগের ০.০৬৬২ একর জমিসহ পাকা ইমারত বিক্রয়ের জন্য গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় নিলামের দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
নিলামে অংশগ্রহণকারী হায়দার আলী সহ একাধিক ব্যক্তি জানান এর আগে চেক দিয়ে নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও চেকে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় পূর্বের একটি নিলাম বাতিল করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে কোট মারফত জানানো হয় যে, নগদ অর্থ জামানত রেখেই নিলামে অংশগ্রহণ করতে হবে। হাউজ বিল্ডিং অফিস ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ২০ লাখ টাকা নগদ জমা দেওয়ার পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিন ছিল গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ নিশীথ রঞ্জন বিশ্বাসের আদালতে নিলাম কার্যক্রম শুরু হয়।
নিলামে ৭-৮ জন উপস্থিত থাকলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে চারজন দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। তিন জন বিশ লক্ষ টাকা জমা দিলেও নিলাম চলাকালে শাপলা খাতুন নামের জৈনক অংশগ্রহণকারী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ১০ লাখ টাকা জমা দেন এবং বাকি টাকা ১০ মিনিটের মধ্যে পরিশোধের নিশ্চয়তা দেন। নিলাম প্রক্রিয়ার শুরুতে সরকারিভাবে নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য ৬৫ লাখ টাকা আদালতের ধার্যকৃত মূল্য।
আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে ৬৬ লাখ টাকা থেকে ডাক শুরু হলে বিভিন্ন দরদাতার প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ দাম ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। এরপর শাপলা খাতুন ৯০ লাখ টাকার ডাক তুললেও। সেই মুহূর্তে ডাকে অংশ গ্রহণকারী তৌহিদুল ইসলাম জজ সাহেবের কাছে আপত্তি ও অভিযোগ তোলেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
তবে দীর্ঘ ৩৫মিঃ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বিচারক উভয়পক্ষের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সর্বোচ্চ দরদাতা ৯২ লক্ষ টাকা জমির মূল্য হিসাবে যুক্ত হবে ২৫%ভ্যাট হিসেবে তৌহিদুল ইসলামের পক্ষেই নিলামের রায় ঘোষণা করেন।
সর্বোচ্চ দরদাতা তৌহিদুল ইসলাম কে নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানতে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন নিলাম টি সঠিক ভাবে হয়েছে, শাপলা খাতুন নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা দিতে না পারলে, জজ সাহেব আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই রায় দেন।
এই নিলামের জমির সংশ্লিষ্ট, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক জিপি আখতারুজ্জামান মাসুমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, নিলামটি অত্যন্ত সঠিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। আমার দেখা মতে, এমন সৎ ও নির্ভীক সিনিয়র সিভিল জজ আমি খুব কমই দেখেছি, তিনি সত্যিই একজন সৎ মানুষ।
ভোরের আকাশ/রই