১৫ বছর ধরে রাস্তার মোড়ে সাহায্যের আকুতি

চলতি পথের ব্যস্ত কোলাহল। এর মাঝেই হাত উঁচু করে সালাম আর একমুঠো সহায়তার আর্জি। দৃশ্যটি সাধারণ কোনো ভিক্ষাবৃত্তির নয়; এটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা এক যুবকের বেঁচে থাকার লড়াই। চাঁদপুরের শাহীন দর্জির মুখে হাসি থাকলেও সেই হাসির আড়ালে জমে আছে দীর্ঘ দেড় দশকের বুকফাটা কষ্ট।
১৫ বছর আগে ঢাকার একটি মুদি দোকানের সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে গুরুতর আঘাত পান শাহীন। আর্থিক অনটনে সুচিকিৎসা হয়নি। ফলস্বরূপ—অচল হয়ে পড়ে জীবন। পেটের টানে এবং জীবিকার তাড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থান হয় রাস্তার মোড়ে।
অসহায় শাহীন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, দোকান থেকে সিলিপ কেটে সিঁড়ির উপর থেকে নিচে পড়ে যাই এবং ব্যথা পাই। টাকা-পয়সা না থাকায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি। মানুষে দিলে খাই, না দিলে না খেয়ে থাকতে হয়। একটা ছোট ঘর উঠাইয়া দিছে, এখানেই থাকি। সরকার সাহায্য করলে সুস্থ হয়ে নিজে কাজ করে চলতে পারতাম।”
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বহেরা বাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত খালেক দর্জির একমাত্র ছেলে শাহীন। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা, এক ভাই ও এক বোন থাকলেও চরম দারিদ্র্য ও পঙ্গুত্ব শাহীনের পরিবারকে কোনো দিন স্বস্তির মুখ দেখায়নি।
প্রতিবেশী শাহ আলম ও স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মিয়াজি জানান, একসময়ের কর্মক্ষম ও সুস্থ শাহীন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আজ নিঃস্ব। তাঁরা বলেন, বিগত বছরগুলোতে উনি সুস্থ ছিলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে অসুস্থ। সরকারের কাছে আবদার, ওনাকে ভালো একটা চিকিৎসা করার জন্য। আর বিত্তবানদের কাছে আবেদন, পুনর্বাসন করার জন্য।”
একটি দুর্ঘটনা কীভাবে একটি তাজা প্রাণময় যুবকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে, তার জলন্ত প্রমাণ শাহীন। স্থানীয়দের মতে, একটু সুচিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পেলে শাহীন হয়তো আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।
সরকারি সহায়তা কিংবা বিত্তবানদের একটু মানবিক স্পর্শই পারে ১৫ বছর ধরে রাস্তার মোড়ে হাত বাড়ানো শাহীনের জীবনে নতুন কোনোপ্রাতের আলো জ্বালাতে।
ভোরের আকাশ/ এনউব