জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশি যুবককে ধরে নেওয়ার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বড়ঘাট এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় মনির হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফের ছোড়া গুলি তাঁর পায়ে লেগেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হরিহরনগর বিলের ধারে বড়ঘাট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ যুবক মনির হোসেন হরিহরনগর উত্তরপাড়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বড়ঘাট সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ বিএসএফের এক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মনির হোসেনসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মনির হোসেনের পায়ে গুলি লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তাঁকে ধরে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চার-পাঁচজন জীবন বাঁচাতে পাশের বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে পাঁচ থেকে সাতজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, “আমরা সীমান্তে গুলির একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসেনি। বিস্তারিত তথ্য পেলে বিষয়টি আপনাদের জানানো হবে। আমরা ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। যোগাযোগ সম্পন্ন হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।”
এদিকে সীমান্তে গুলির শব্দ এবং এক বাংলাদেশি যুবককে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে মনির হোসেনের বর্তমান অবস্থান, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না এবং তাঁকে ভারতের কোন এলাকায় নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং যুবকের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব