বাসাইলে সাবেক আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় হানিফ খান (৪২) নামে এক সাবেক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা বিলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হানিফ খান বাসাইল উপজেলার হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার খানের ছেলে। তিনি ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। প্রায় এক বছর আগে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, হানিফ খান রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিলপাড়া গ্রামের একটি এলাকায় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে হানিফ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বাসাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ রাতেই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত নূর খানের ছেলে জাকির ওরফে মদন (৪৩) ও একই এলাকার বক্কারের ছেলে ডায়মন্ড মিয়া (৪০)।
পুলিশ জানায়, নিহত হানিফ খানের বিরুদ্ধে বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর থানায় পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা রয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা