শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডুয়েল গেজে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 

প্রায় ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ আধুনিকায়ন হলে একই লাইনে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেন চলাচলের সুবিধা তৈরি হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উভয়ই কমতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি শুধু রেলপথের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন রেলপথে আরও সহজ হলে সড়ক যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় শুধু রেললাইন পরিবর্তন নয়, বিদ্যমান অবকাঠামোরও ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। সেতু ও কালভার্ট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, লুপ লাইন ও লেভেল ক্রসিং পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি সিগন্যালিং এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা অবকাঠামোও উন্নত করা হবে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে স্থানীয়দের কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজের সময় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমাতে নির্ধারিত পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। নির্মাণ এলাকায় ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো, শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণবর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংবেদনশীল এলাকার আশপাশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজন না হলে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে না। কোনো গাছ অপসারণের প্রয়োজন হলে তার পরিবর্তে একাধিক গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহল অবশ্য প্রকল্পের পুরো সময়জুড়ে বৃক্ষ, বায়ু, শব্দ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ বিবেচনার কথা জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমির পাশাপাশি স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয়দের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য অভিযোগ প্রতিকার কমিটি বা জিআরসি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার কথা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে পরিবেশের ক্ষতি যাতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সুপারিশ দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও প্রকল্পটিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ডুয়েল গেজ চালু হলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বন্দর থেকে কৃষি ও শিল্পপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। পরিবহন ব্যয় কমার ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও বাড়তে পারে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আসাদুল হকের মতে, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েল গেজে উন্নীত হলে দেশের রেল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা আরও বাড়বে। এর মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন

শ্রীপুরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

তিনি আরও জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে প্রকল্পটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা ইআইএ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

ভোরের আকাশ/রই


 

মো. আসাদুল হক

শেয়ার করুন: