তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু চেয়ে পূজামণ্ডপে প্রার্থনার অনুরোধ

সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করে শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কমলনগরের ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির ত্রিনয়নী সংঘ’ ও ‘শ্রী শ্রী নিতাই গৌর সেবাশ্রম’ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, "বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানসিক পরিবর্তনের কারণে এবার পূজামণ্ডপে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শাড়ি উপহার পাচ্ছেন, যা আগের সরকারের আমলে শুধু মুসলমানদের ঈদ উৎসবে বিতরণ করা হতো। সুন্দর বাংলাদেশ উপহারের জন্য এবং তারেক রহমানের ইতিবাচক ভাবনার সুফল পেতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা। দুর্গাপূজার আরাধনার মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আপনারা এটাই প্রার্থনা করবেন—তিনি যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ধর্ম ও মানবতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যখন আমরা মাতৃগর্ভে আসি, তখন আমরা জানি না নিজের ধর্ম কী। জন্মের পর পিতামাতা ও পরিবারের ধর্মই মানুষ পালন করে—সে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ কিংবা অবিশ্বাসী যাই হোক না কেন। যেমন ভিয়েতনামে ৩৬% মানুষ ধর্মে বিশ্বাস করে না। তাই ধর্ম যার যার হলেও উৎসব ও মানবধর্ম সবার। মানুষ হিসেবে একে অপরকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। আমাদের আবহমান সংস্কৃতির হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও সখ্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
হুইপ নিজান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে মা দুর্গার আগমনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন, ঠিক যেমন মুসলমানরা ঈদের জন্য অপেক্ষা করে। দক্ষিণ ভারতের সনাতনীরা দীপাবলি পালন করেন, যা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। দুর্গোচ্ছবের মূল সুর হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় এবং হৃদয়ের আসুরিক চিন্তা ধূলিসাৎ করে ভালোবাসার আলো ছড়ানো। নাগরিক হিসেবে এখানে সবার অধিকার সমান। সমাজে কোনো ধরনের অন্যায় বা গুন্ডামি বরদাশত করা হবে না।
পরিদর্শনকালে 'শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির' কমিটির নেতারা জানান, হুইপ নিজান বিগত ১৭ বছর ধরে প্রতিটি পূজায় এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর রাখছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ-জামান বলেন, "মাননীয় সংসদ সদস্য দীর্ঘ সময় নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে এসেছেন। সরকারি নির্দেশনার আলোকে পূজাকে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর রাখতে প্রশাসন সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ-জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (রামগতি সার্কেল) ডা. শামসুল আলম এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, কমলনগর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ভাস্কর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চন্দ্র দাসসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে হুইপ নিজান স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ৩০০ জন নারীর মাঝে শাড়ি কাপড় বিতরণ করেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব