ডিসির পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের বাইরে ৬ শিক্ষার্থী, তিন শিক্ষিকাকে শোকজ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের বাইরে ছয় শিক্ষার্থীকে দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিল, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. মাহতাবুর রহমান।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষিকারা হলেন ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাছরিন মমতাজ এবং সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আকতার ও লাভলী ইয়াসমিন।
বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১২টার দিকে ফুলবাড়ি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান। এ সময় পাশের ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করতে দেখেন তিনি।
পাঠদান চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে, তা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাদের ভূমিকা জানতে চেয়ে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাছরিন মমতাজ বলেন, আমি আমার দায়িত্বে অবহেলা করিনি। আমার নির্ধারিত ক্লাসে পাঠদান করছিলাম। আমরা বিদ্যালয়ের বাইরে যাইনি, ক্লাসেই ছিলাম। এরপরও আমাদের শোকজ করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আকতার ও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসের বিরতি ছিল মাত্র দুই মিনিট। এ সময়ের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যায়। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা হয়। পরে আমরা শোকজের চিঠি পাই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. মাহতাবুর রহমান বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পাঠদান চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল, তা জানতে তিন শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র