সাতকানিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ১, অস্ত্র-গুলি, ইয়াবা উদ্ধার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদক ও অস্ত্রের গোপন আস্তানা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে সদর ইউনিয়নের করাইয়া নগর এলাকার একটি বাড়িতে সেনাবাহিনীর টহল দলসহ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মো. জানে আলম (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত পুরাতন একটি বিদেশি রিভলভার, একটি কার্তুজ, একটি খোসা এবং ২৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
সাতকানিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আসার রুট হিসেবে সাতকানিয়ার বিভিন্ন গ্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসব মাদক শুধু তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে না, বরং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতাও বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ত্রের ছড়াছড়ির কারণে স্থানীয় বিরোধ, দাঙ্গা ও অপরাধ প্রবণতাকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে ছোটখাটো পারিবারিক ঝগড়াও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
যৌথবাহিনীর অভিযানে এলাকাবাসী নতুন আশার সঞ্চার দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র ভেঙে পড়বে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, এর পেছনে থাকা মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
অভিযানের পর করাইয়া নগর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “অনেক দিন ধরেই এলাকায় গোপনে মাদক কেনা-বেচা হচ্ছিল। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারতাম না। এবার সেনাবাহিনী আর পুলিশের অভিযান আমাদের সাহস জুগিয়েছে।”
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
ভোরের আকাশ/মো.আ.