দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের জামাল নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মো. জামাল মিয়া (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে দেশটির রাজধানী কেপ টাউনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল মিয়া চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামের মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারীর ছেলে। তিনি তিন ভাই, এক বোন, স্ত্রী এবং তিন কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তানের জনক ছিলেন। তার পরিবার ও স্বজনরা এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় চার থেকে ছয় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল মিয়া। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে রাজধানী কেপ টাউনে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্যবসা পরিচালনা শেষে বা দোকান খোলার সময় স্থানীয় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ সময় দোকানে থাকা অপর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা জড়িতদের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম। তিন শিশুসন্তান বায়েজিদ (৮), সিনথিয়া (৩) এবং সামিরা আক্তারকে (২) নিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন তিনি। আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডে পুরো সিপাইকান্দি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
নিহতের শোকার্ত বাবা মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ছোট ছোট নাতিগুলো অল্প বয়সে এতিম হয়ে গেল। ছেলের লাশটা শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখার সুযোগও পেলাম না। বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর দুর্ভাগ্য কী হতে পারে!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, খুব দ্রুত যেন ছেলের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও যথাযথ সহযোগিতায় বাংলাদেশে এনে নিজ গ্রামে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।’ এজন্য তিনি সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
ভোরের আকাশ/সু.পা