নাজমুল হুদা মজনুর তিনটি কবিতা
নূরের তরী থেকে গভীর রাতে

নূরের তরী বেয়ে ছুটে চলা তৃষিত অন্তর
ছুঁয়ে যায় গ্রহ-নক্ষত্র নীলিমার সাত পর্ব
মহাজাগতিক স্বপ্ন সাজায় মহাশক্তিমান
মানুষ তো তুচ্ছ অতি, সবই যে তাঁর গর্ব।
মনোলোভা সুরে রাখাল বাজায় বাঁশরী
কিষানের মায়া ঝরে স্বর্ণালী ধানক্ষেতে।
মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা রঙিন চিত্র
ধুলার এ পৃথিবী ছেড়ে দূরে হবে যেতে।
আকাশের তারকারা নেয় কাছে ডেকে
রাত্রি যখন গভীর অন্ধকারে ডুবে যায়।
আরশের মালিক এক আল্লাহর ইঙ্গিতে
হৃদয় ছুটে যায় সিদরাতুল মুনতাহায়।
দীপ্ত শিখায়
দীর্ঘ সময় খেটেখুটে শত শব্দ সমাহার
সুন্দর বর্ণ সাজিয়ে বাতায়ন স্মৃতিময়,
দখিনা বাতাস আগুনের হলকা তাপিত
শ্রাবণ মেঘ স্বস্তি আনে প্রাণে প্রীতিময়।
শব্দেরা সব রূপকথা হোক মাতৃ ভাষায়
তপ্ত দিনের ক্লান্তি মুছে বর্ষা যখন নামে,
ধুয়ে যাক বিষাদের যত আছে বিড়ম্বনা
হৃদয়জুড়ে পলি জমে অনুরাগের খামে।
কেটে যাক কালো মেঘের যত যবনিকা
দিগন্ত বিস্তৃত স্বপ্নের মায়াময় রংধনুটায়
জাগুক নতুন জীবন আলোকিত প্রান্তে
আত্মশক্তি সাহসী উজ্জ্বল দীপ্ত শিখায়।
গভীর রাতে
আমি যে গুনাহগার বান্দা তোমার,
মুখাপেক্ষী শুধুই তোমার করুণার।
তোমার সৃষ্টি এ দুনিয়ার পথেঘাটে,
জানে না কী আছে কার ললাটে।
অন্ধকার এ পথের ভুল ইশারায়,
কেটেছে কত রাত পাপের ছায়ায়।
দয়া করো হে প্রভু, রহমান তুমি,
তোমারি করুণা যাচে তৃষিত এ ভূমি।
নত শিরে ডাকি তোমায় গভীর রাতে
পারো তো কেবল তুমি হৃদয় জুড়াতে।
অশ্রুঝরা এই চোখের মিনতি,
দূর করে দাও প্রভু মনের দুর্গতি।
আমায় তুমি রেখো না আর অন্ধকারে,
পৌঁছে দিও আলোকময় সেই ওপারে।
ক্ষমা করে দাও আমার অপরাধ যত,
আমি যে তোমার দ্বারে ভিখারির মতো।
ভোরের আকাশ/এনএ