মানবিক অনুভূতির তিনটি কাব্যচিত্র
শহীদের গৌরব থেকে নতুন প্রভাতের স্বপ্ন

এ কবিতায় জীবনের দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রাম ও আশাবাদের কথা উঠে এসেছে। কবি মানুষের বেদনা নিজের মধ্যে ধারণ করে আল্লাহর কাছে নতুন ভোরের প্রার্থনা করেছেন। শেষের মুনাজাতধর্মী আবেদন কবিতাটিকে আধ্যাত্মিক গভীরতা দিয়েছে।
জান্নাতের সবুজ পাখি
সাহসী বীর মুক্তি সেনা
লড়াই করে আনলো
স্বাধীনতা।
স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে
দেশ-জাতির মনের পাতায়
তাদের অমূল্য ত্যাগের কথা।
ছেলেহারা মায়ের মনে
হাজার স্মৃতি আঁকা
কলজে ছেঁড়া বুকের মানিক
বাজবে না আর মধুর সুরে
মা বলে ডাকা।
অভাগিনী মায়ের দিন চলে যায়
শোকের ছায়ায়
অশ্রু সজল কান্নাতে।
মাগো তুমি আর কেঁদো না
খুশির খবর শোনো–
রক্তে ভেজা শহীদেরা
ফেলনা নয় তো কোনো;
সবুজ পাখি হয়ে ওড়ে
শান্তি সুখের পূর্ণ সরোবরে
আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব জান্নাতে।
তুমি আমার গান
হৃদয়ের চাওয়া-পাওয়া সব
তোমার স্বপ্ন আঁকে
স্মৃতির ক্যানভাস ভরে ওঠে
জীবনের বাঁকে বাঁকে।
তুমিহীন এই পথ চলাতে
ভাবনা ছড়ায় ডানা,
তোমার মাঝেই খুঁজে পাই যে
আমার ঠিকানা।
হৃদয় জুড়ে অনুভবে
তুমি আছো মিশে,
ভোরের আলোয় তোমায় খুঁজি
দিক-বিদিকের দিশে।
শত জল্পনা আর কল্পনায়
তুমি আমার গান,
তোমার প্রেমে সঁপেছি আজ
আমার এ পরান।
নতুন প্রভাত
যেখানে আঘাত সেখানেই যাই
সবাই তো সুখী হতে চায়
আমি না হয় কিছু দুঃখ কুড়াই।
আমারও ছিল স্বপ্ন অশেষ
কাঙ্ক্ষিত লাবণ্য নিরুদ্দেশ।
নীলিমা গ্রহ নক্ষত্র পাহাড় সাগর
সবুজ বনানী দুরন্ত নির্ঝর
নিজেকে বিলিয়ে দেয় অকাতর।
জীবনের হিসাব নিকাশ বিচিত্র অতি
মেলে না সহজে সব লাভ আর ক্ষতি।
কায়ক্লেশে হাত তুলে করি মুনাজাত
হে আল্লাহ দান করো নতুন প্রভাত।
ভোরের আকাশ/এনএ