শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বছরে ৮০ লাখ শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জন্মগত ত্রুটিজনিত মৃত্যু ও অক্ষমতা কমাতে নবজাতকের স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন জন্মগত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে লাখো শিশুর জীবন রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক জটিলতা প্রতিরোধ করা করা সম্ভব।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন প্রতিবেদন (Strengthening Capacity for Newborn Screening, Diagnosis and Management of Birth Defects )- এ নবজাতক স্ক্রিনিংকে শিশু মৃত্যুহার কমানোর কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ৮০ লাখ শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর প্রায় ৮ শতাংশের জন্য জন্মগত ত্রুটি দায়ী। গুরুতর জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করে, যেখানে স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা এখনও সীমিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘জন্মগত ত্রুটি সময়মতো শনাক্ত না হওয়ায় কোনো শিশুরই একটি সুস্থ ভবিষ্যতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে, নবজাতকের স্ক্রিনিং জীবন বাঁচাতে, প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করতে এবং শিশুদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ দিতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্মের পরপরই শনাক্ত করা গেলে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম, সিকেল-সেল ডিজিজ, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং বিভিন্ন বিপাকীয় রোগের কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের বহু দেশে এসব রোগ হয় দেরিতে শনাক্ত হয়, নয়তো কখনোই শনাক্ত করা যায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, দেশভেদে নবজাতক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগে ব্যাপক বৈষম্য রয়ছে। কিছু দেশে ৫০টিরও বেশি রোগের জন্য সব নবজাতকের স্ক্রিনিং করা হয়, অন্যদিকে অনেক দেশে একটি রোগের জন্যও কোনো জাতীয় স্ক্রিনিং কর্মসূচি নেই। এ কারণে সংস্থাটি প্রতিটি দেশকে অন্তত একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রোগ দিয়ে স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুর অন্যান্য কারণ কমে আসায় অনেক অঞ্চলে জন্মগত ত্রুটির কারণে মৃত্যু হার তুলনামূলকভাবে বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর মধ্যে জন্মগত ত্রুটির অবদান ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ নবজাতক এখনও জন্মের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং সুবিধার আওতায় আসে না। ফলে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম, শ্রবণশক্তির সমস্যা, কিছু বিপাকীয় রোগ কিংবা রক্তজনিত জটিলতা অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে শনাক্ত হয়। এতে চিকিৎসার সুযোগ কমে যায় এবং অনেক শিশুকে আজীবন শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বহন করতে হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের এক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় জানানো হয়েছে, দেশে নবজাতক মৃত্যুর প্রায় ৭ শতাংশের সঙ্গে জন্মগত ত্রুটির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ড্রাইড ব্লাড স্পট’ পদ্ধতিতে নবজাতক স্ক্রিনিং বিস্তৃত করা গেলে শিশুমৃত্যু কমানো এবং বহু শিশুকে আজীবন অক্ষমতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

এদিকে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বাংলাদেশের একটি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া ৫ হাজার ২২৩ নবজাতকের মধ্যে ৩.৫ শতাংশের জন্মগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। এসব শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। গবেষণায় মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং গর্ভকালীন কিছু জটিলতাকে জন্মগত  ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতিবেদনটির অন্যতম লক্ষ্য হলো বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নবজাতক স্ক্রিনিং কর্মসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা করা।

এতে কয়েকটি দেশের সফল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। আর্জেন্টিনা প্রায় সার্বজনীন নবজাতক স্ক্রিনিং নিশ্চিত করেছে। ব্রাজিল দেশব্যাপী একাধিক জীবন-হুমকিপূর্ণ রোগের স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ করেছে। মিশর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা ও জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম স্ক্রিনিং একীভূত করেছে।

আরও পড়ুন

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরকারগুলোকে নবজাতক স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, প্রতিটি দেশের উচিত নিজেদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক রোগগুলো দিয়ে স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করা এবং ধাপে ধাপে তা সম্প্রসারণ করা।

ভোরের আকাশ/এনএস

শিশু জন্মগত ত্রুটি

শেয়ার করুন: